শীতের ফ্লু ও ইমিউন সিস্টেম: ভালো ঘুম কেন এত জরুরি
শীতকাল এলেই ঠান্ডা, কাশি ও ফ্লু—এগুলো খুবই পরিচিত সমস্যা। সাধারণত ওষুধ খেলে কয়েক দিনের মধ্যেই আরাম পাওয়ার কথা। কিন্তু অনেকের ক্ষেত্রে দেখা যায়, ঠিকমতো চিকিৎসা নেওয়ার পরও ফ্লু সেরে উঠতে অস্বাভাবিকভাবে বেশি সময় লাগছে। এর পেছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হতে পারে পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব।
ফ্লু ও ঘুমের মধ্যে কী সম্পর্ক?
আমরা অনেক সময় ঘুমকে তেমন গুরুত্ব দিই না। অথচ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (ইমিউন সিস্টেম) ঠিকভাবে কাজ করার জন্য ঘুম অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
রেসপিরেটরি মেডিসিন বিশেষজ্ঞদের মতে,
ভালো ও গভীর ঘুমের সময় আমাদের শরীর ‘সাইটোকাইন’ নামের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিন তৈরি করে। এই প্রোটিন শরীরকে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে।
যখন ঘুমের ঘাটতি হয়, তখন এই প্রোটিনের উৎপাদন কমে যায়। ফলে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ফ্লু বা সংক্রমণ সেরে উঠতে বেশি সময় লাগে।
ফ্লু হলে কেন বেশি ঘুম দরকার?
ফ্লু আক্রান্ত অবস্থায় শরীর স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি পরিশ্রম করে ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করে। এই সময় পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও ঘুম না হলে—
-
রোগের সময়কাল দীর্ঘ হয়
-
দুর্বলতা ও ক্লান্তি বাড়ে
-
বারবার ফ্লু হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়
পর্যাপ্ত ঘুম শরীরকে নিজে থেকেই দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য করে।
ফ্লু থেকে দ্রুত সেরে উঠতে কী করবেন?
শীতকালে ফ্লু থেকে দ্রুত আরোগ্যের জন্য—
-
প্রতিদিন ৭–৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম নিশ্চিত করুন
-
দেরি করে ঘুমানো ও স্ক্রিন টাইম কমান
-
পর্যাপ্ত পানি পান করুন
-
ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করুন
কখন ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন?
যদি—
-
৭–১০ দিন পরও ফ্লুর উপসর্গ না কমে
-
জ্বর, কাশি বা শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়
-
বারবার ফ্লুতে আক্রান্ত হন
তাহলে দেরি না করে একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।